মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব: সেনা বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক

গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যাপারে আবারো হুমকি দেওয়ায়, অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ডেনমার্ক।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ডেনমার্কের রয়্যাল আর্মির প্রধানের নেতৃত্বে একটি বড় সৈন্যদল গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছে। ডেনমার্কের এই পদক্ষেপকে দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় টেলিভেশন ‘টিভি-২’ জানায়, মোট ৫৮ জন ডেনিশ সেনা গ্রিনল্যান্ডে অবতরণ করেছে। তারা ‘অপারেশন আর্কটিক এনডুরেন্স’ নামক বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে আগে থেকে অবস্থানরত ৬০ জন ডেনিশ সেনার সঙ্গে যোগ দেবে।

গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খনিজ সমৃদ্ধ এই বিশাল আর্কটিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকার করেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগ করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “নো কমেন্ট।”

এর আগে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গহর স্টোরকে পাঠানো এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছিলেন যে, এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার পর তিনি আর কেবল ‘শান্তির কথা চিন্তা করতে’ বাধ্য নন।

ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক হলেও স্পষ্ট করে বলেছে যে, এই অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়। তারা সতর্ক আরো বলেছে, বলপ্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলের যেকোনো চেষ্টা ‘ন্যাটো’ জোটের মৃত্যুঘণ্টা বাজাবে।

গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ন্যাটোর সনদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা মানে পুরো জোটের ওপর হামলা। ডেনমার্ক ন্যাটের সদস্য, অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

এদিকে, এই উত্তেজনার মধ্যে সোমবার ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সেখানে যৌথ ন্যাটো মিশন স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করায় ট্রাম্প ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের পণ্যে ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শর্ত দিয়েছেন- গ্রিনল্যান্ড বিক্রির চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বজায় থাকবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইইউ তাদের ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ আইন জারি করতে পারে। এর ফলে ইউরোপের বাজারে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

গত বছর ডেনমার্কের পত্রিকা বার্লিংস্কের এক জনমত জরিপে দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিপক্ষে, আর মাত্র ৬ শতাংশ এর পক্ষে মত দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com